কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয় পর্বতমালার অসম্ভব সুন্দর একটি পর্বতসৃঙ্গ এর নাম!

কাঞ্চনজঙ্ঘা
কাঞ্চনজঙ্ঘা

কাঞ্চনজঙ্ঘা সমুদ্রপৃষ্ট থেকে এর উচ্চতা ৮৫৮৬ মিটার! উচ্চতার দিক থেকে এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম সর্বোচ্চ পর্বতসৃঙ্গ! অত্যান্ত দৃষ্টিনন্দন এই অপুরূপ আবার একি দিকে রতো দুর্গম এর প্রতিকুল এর যাত্রাপথ যে এর চুড়ায় পোছাত্র প্রতি ৬ জনে ১ জন ব্যর্থ হয় যদিও এখন পর্যন্ত এর চুড়ায় এখনো কেউ পোছাতে পারে নি! সে নিয়ে আছে আরেক গল্প!

 

সিকিম এবং নেপালের অনেক মানুষ এই পর্বতকে পুজা করে তারা বিশ্বাস করর কাঞ্চনজঙ্ঘা এর চুড়ায় পবিত্র আত্নারা থাকে! এইজন্য এর চুড়ায় পা রাখলে পবিত্রতাকে অবমাননা করা হবে বলে মনে করে তারা এইজন এই চুড়ায় কাউকে আরোহন করতে দেয় না তারা এর পর ১৯৫৫ সালে জো ব্রাউন ও জর্জ ব্রাউন সিকিম রাজার কাছ থেকে অনুমতি নেন যে তারা এই সর্বোচ্চ চুড়ায় পা দিবেন না শুধুমাত্র আরোহন করবেন!

 

এই সর্ত মেন্বি তারা যাত্রা শুরু করে আর এটিই ছিলো কাঞ্চনজঙ্ঘা এর প্রথম মানুষ পদচারণ! সে থেকে এই পর্যন্ত দকল অভিযাত্রী এই নিয়ম মেনে আসছে! কাঞ্চনজঙ্ঘা নিয়ে অনেক মিথ প্রচলিত আছে যেমন এর নিচে বাস করা লেপচা জনোঘোষ্টি মনে করে এই পর্বতে ইয়েতি থাকে! এই চুড়ায় প্রথম পৃথিবীর নারী ও পুরুষ মানুষ সৃষ্টি হয়েছে এরকম বিশাস রয়েছে তাদের মধ্যে! আবার অনেকে মনে করে অমরত্বের রহস্য লুকিয়ে আছে এই কাঞ্চনজঙ্ঘা তে।

 

শেরফা তেনজিং এর বই ‘ম্যান অব এভারেষ্ট’ এর অর্থ হলো বরফের পঞ্চরত্ন কাঞ্চনজঙ্ঘা এর মোট পাচটি চুড়া রয়েছে যার থেকে এই নামকরন করা হয়েছে। পাঁচটি চুড়ার সব গুলোর উচ্চতা ৮৪৫০ মিটারের উপর। দুটি চুড়ার অবস্থান নেপালে এবং বাকি তিনটি চুড়ার অবস্থান ভারতের সিকিম ও নেপালে!

 

দৃষ্টিনন্দন এই পাহাড়ের সৌন্দর্য ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন সাদা বরফে আচ্চাদিত এই কাঞ্চনজঙ্ঘার চুড়ায় প্রথম সুর্যের আলো পড়ার সাথে সাথে এক অপুর্ব দৃশ্য সৃষ্টি হয় যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সুর্যের আলোয় এই পর্বত কালচে লাল সোনালি কমলা হলুদ বর্ন ধারন করে এই সৌন্দর্য নিংড়ে নিতে চাইলে সারাদিন এই পর্বতের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে!

 

কাঞ্চনজঙ্ঘা এর এই অপুর্ব সৌন্দর্য দেখতে কেউ ছুটে যান দার্জিলিং এ কেউ সিকিম এ কেউ বা কালিম্পং এ!কাঞ্চনজঙ্ঘা এর অধিকাংশ দর্শনার্থী বিশেষ কিরে বাঙালীতা এই সৌন্দর্য দেখতে ২৫৭৩ মিটার উচু টাইগাত হিলে ছুটে যান! কারন বাংলাভাষী মানুষের অনেক আবেগ এবং অনুভুতি রয়েছে এই জায়গাকে ঘিরে!

 

বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভালো দেখতে পাওয়া যায় অক্টোবর মাসে সুর্য দক্ষিনে হেলে থাকার কারনে ভালোমতো দেখতে পাওয়া যায় এটিকে যদিও আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবুও অপুর্ব এক দৃশ্য দেখা যায়!

কাঞ্চনজঙ্ঘা
কাঞ্চনজঙ্ঘা

মনোরম এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারা যায় বাংলাদেশ থেকে অক্টোবর নভেম্বর এ বাংলাদেশ এর সর্বউত্তর জেলা পঞ্চগড় থেকে খুবি স্পষ্ট ভাবে এই দৃশ্য দেখা যায়! বছরের অন্যান্য সময় টুকটাক দেখা গেলেও অক্টোবর নভেম্বর মাসে এটি সম্পুর্ন দেখা যায়! সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট দেখা যায় তেতুলিয়া উপজেলা থেকে পঞ্চগড় শহর থেকে তেতুলিয়ার দূরুত্ব মাত্র ১৩৭ কিলোমিটার! মহানন্দা নরীর গা ঘেষে এই শহর! তেতুলিয়ার এই সোন্দর্যের কারনে প্রতিবছর অনেক মানুষ ছুটে আসে এই সৌন্দর্যকে উপভোগ করতে! হেমন্তের পাকা ধান শীতের আগমনী গান তেতুলিয়ার সমতল চা বাগান সব মিলিয়ে এক মনমুগ্ধকর সৌন্দর্য! তেতুলিয়াতে রয়েছে অসজ্র সমতল চা বাগান! বাংলাদেশের একমাত্র পঞ্চগড়েই সমতল ভুমিতে চা চাষ হয়!

 

ট্রেন থেকে নেমে পঞ্চগড় যেতে যেতেই চোখে পড়বে কাংখিত সেই কাঞ্চনজঙ্ঘা! করতোয়া ব্রিজ থেকে সকালের সুর্যের আলোয় লালিকা যুক্ত সোন্দর্য দেখলেই মিন ভরে যাবে! পঞ্চগড় বাংলার বান্ধা জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত এর মধ্যেই অনেকবার রঙ বদলাতে দেখতে পারবেন! ভোরে ঘুম থেকে উঠেই বাস ধরে দেড় ঘন্টায় পোছানো যাবে তেতুলিয়া শহরে সারাদিন বাস পাওয়া যায় বাসের জানালার সিটে বসলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে দেখতে পোছিয়ে যাওয়া যাবে তেতুলিয়াতে!

 

তেতুলিয়া শহরের আনাচে কানাচে রয়েছে অসম্ভব সোন্দর্য! চা বাগান আর সিমান্তের মনমুগ্ধকর যায়গায় সারাদিন ঘুরাঘুরি করতে পারবেন! চা বাগানের মধ্যে বসে থাকলে দেখতে পারবেন অজস্র পাখি আকাশে উড়ে যাচ্ছে যাদের সচারাচর দেখা যায় না এই পাখিকে কেউ সিমান্তের কাটাতারের বেড়া দিয়ে আটকিয়ে রাখতে পারে নি! যেমন আটকে রাখতে পারে কি কাঞ্চনজঙ্ঘা এর সোন্দর্যকে

 

বিকাল পেরিয়ে গোধুলির আলো নামলে টং দোকানে চা খেতে পারেন রুমে ফিরার সময় সন্ধ্যার কুয়াশার শিসিরের ঘ্রান নিতে পারেন! সন্ধ্যার কুয়াশার চাদর আপনার সঙ্গী হবে! পাহাড়ের সাথে প্রকৃতির সাথে পাখির ডাকের সাথে কয়েকদিনের ছুটি কাটিয়ে এক বুক তৃপ্তি নিয়ে ঘরে ফিরতে পারবেন

 

আমাদের ওয়েবসাইটে পোষ্ট করুন

writing blog post
writing blog post
Summary
কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয় পর্বতমালার অসম্ভব সুন্দর একটি পর্বতসৃঙ্গ এর নাম!
Article Name
কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয় পর্বতমালার অসম্ভব সুন্দর একটি পর্বতসৃঙ্গ এর নাম!
Description
সমুদ্রপৃষ্ট থেকে এর উচ্চতা ৮৫৮৬ মিটার! উচ্চতার দিক থেকে এটি পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম সর্বোচ্চ পর্বতসৃঙ্গ! অত্যান্ত দৃষ্টিনন্দন এই অপুরূপ আবার একি দিকে রতো দুর্গম এর প্রতিকুল এর যাত্রাপথ যে এর চুড়ায় পোছাত্র প্রতি ৬ জনে ১ জন ব্যর্থ হয় যদিও এখন পর্যন্ত এর চুড়ায় এখনো কেউ পোছাতে পারে নি! সে নিয়ে আছে আরেক গল্প!
Total
0
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous Post
পাব্জি কেন এতো জনপ্রিয়

পাব্জি কেন এতো জনপ্রিয়

Next Post
সুইচ ব্যাংক কি

সুইচ ব্যাংক কি? সুইচ ব্যাংক ব্যবহার