বিটকয়েন কি ও ইতিহাস

বিটকয়েন কি ও ইতিহাস
বিটকয়েন কি ও ইতিহাস

বিটকয়েন

গুগলে সবচেয়ে বেশি সার্চ করা ওয়ার্ড হলো বিটকয়েন আর এইটা কি কারনে এতো বেশি সার্চেবল? সবচেয়ে সিম্পল ভাবে বলতে গেলে বিটকয়েন এক ধরনের ভার্চুয়াল কারেন্সি! আজকে জানার চেষ্টা করবো কি এই বিটকয়েন আর এটার ইতিহাস কি

ক্রিপ্টোকারেন্সি ফিজিকাল এক্সিষ্ট ছাড়া এক ধরনের ভার্চুয়াল কারেন্সি যা এক ওয়ালেট থেকে ওন্য ওয়ালেট এ ট্রান্সফার হয় ( ক্রিপ্টোকারেন্সি কি বিস্তারিত এখানে দেখুন )

বিটকয়েন ২০০৯ সালে সবচেয়ে প্রথম ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে চালু হয়! এর পরের ১ দশকে বিটকয়েন সবচেয়ে পপুলার ক্রিপ্টোকারেন্সি হিসেবে দাঁড়ায় পাশাপাশি বাড়তে থাকে এর দাম সম্প্রতি পেপাল বিটকয়েন সহ অন্যান্য অনেকগুলো ক্রিপ্টোকারেন্সি কে তাদের সার্ভিসে অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষনা দিয়েছে

ফলে বিটকয়েন ব্যবহারকারীরা সহজেই তাদের পেপাল অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি বিটকয়েন কেনা বা বিক্রি করতে পারবে এ ঘোষণা করে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম অনেক বেড়ে গেছে

বিটকয়েনের ইতিহাস :

২০০৮ সালে ১৮ আগষ্ট bitcoin. Org রেজিষ্ট্রার করা হয় এবং সেই বছরের ৩১ অক্টোবর বিটকয়েন A peer to Peer Electronic Cash system নামে ওয়েট পেপার পাব্লিশ করা হয়

পেপারটিতে বলা ছিলো peer to peer কি কিভাবে কাজ করে এবং বিটকয়েন কি এই সম্পর্কে এবং পাব্লিশার এর নাম ছিলো সাতশি নাকামোটো! সেই থেকেই সাতশি নাকামোতোকে বিটকয়েনের প্রতিষ্টাতা ইনভেন্টর হিসেবে ধরা হয়! কিন্তু সাতশি নাকামোতো এর পরিচয় নিয়ে এখন পর্যন্ত রয়েছে বিশাল এক রহস্য নাকামোতো কি কোনো একটি ব্যাক্তি বা ব্যক্তিগোষ্টি তা নিয়ে অনলাইন কমিউনিটিতে অনেক বিতর্ক রয়েছে

বিটকয়েনের প্রথম ট্রানজেকশন হয় সাতশি নাকামোতো আর পোগ্রামার হাল ফিনে এর মধ্যে হাল ফিনে বিটকয়েন রিলিস হওয়ার দিনেই সফটওয়্যার ডাউনলোড করেন আর জানুয়ারির ১২ তারিখ সাতশি নাকামতো থেকে ১০ বিটকয়েন পান!

 

হাল ফিনে এর পাশাপাশি বিটকয়েনের আইটি সাপোর্টার অয়ে ডাই আর বিটকয়েন ক্রিয়েটর নিক যাবো অন্যতম ছিলেন

বিটকয়েন চালু হওয়ার পর সাতশি নাকামতো বেশকিছু ক্রিপ্টোগ্রাফার আর প্রোগ্রামের সাহায্যে বিটকয়েনের প্রন্ট ইন ডেভেলপমেন্ট এবং মাইনিং করে যাচ্ছিলেন

কিন্তু ২০১১ সালে ২৩ এপ্রিল হুট করেই বিটকয়েনের কো ডেভুলপারকে সাতশি নাকামতো তার বিদায়ের কথা জানিয়ে দেন!

কিন্তু যাওয়ার সময় সাতশি নাকামতো খালি হাতে যান নি তিনি ১ মিলিয়ন বিটকয়েন মাইনিং করে গিয়েছিলেন যার বর্তমান বাজারমুল্য ২৩ বিলিয়ন ডলার!

বিটকয়েনের একটি বৈশিষ্ট হলো বিটকয়েন সর্বোচ্চ ২১ মিলিয়ন ইউনিট পর্যন্ত হবে এর পর বিশ্বে আর কোনো নতুন বিটকয়েন আসবে না এখন পর্যন্ত ১৮.৫ মিলিয়ন পর্যন্ত বিটকয়েন মাইন করা হয়ে গেছে আর ৩.৫ বিটকয়েন বাকি আছে কিন্তু বিটকয়েনের এলগরিদম অনুযায়ি শেষ বিটকয়েনটি মাইনিং করতে ২১৪০ সাল পর্যন্ত সময় লেগে যাবে!

বিটকয়েনের এই সল্পতার কারনে অনেকেই মনে করেন বিটকয়েনের এই সল্পতার কারনে বিটকয়েন মাইনিং করা শেষ হয়ে গেলে এর মুল্য আর থাকবে কারন মাইনার রা আর কোনো রিওয়ার্ড পাবে না! কিন্তু ব্লকচেইন ইন্টিলিজেন্টস দের ভিন্ন মত রয়েছে কারন বিটকয়েনে প্রতিটি ট্রাঞ্জেকশনে বিটকয়েন মাইনার রা সল্প পরিমান রিওয়ার্ড পেয়ে থাকে

কিন্তু বিটকয়েন এক্সিকিউটিটার দের মতে বিটকয়েন এর মাইন শেষ হয়ে গেলে এর সল্পতা মানুষের চাহিদা এবং বিটকয়েনের সিকোরিটির জন্য একসময় বিটকয়েনের ভ্যালু বাড়তেই থাকবে ২০২০ সালের রিলিস এক্সেইঞ্জড অনুযায়ী ১ বিটকয়েন এর ভ্যালু = ২৩ হাজার ১ শত ৪৩ ডলার বিটকয়েন ফ্যানরা মনে করেন ভবিষ্যতে এই দাম আরো বাড়বে যা বাস্তবে প্রমানিত

বর্তমানে ১ বিটকয়েনের দাম = ৫৩ হাজার ৩১২ ডলাএ যা বাংলাদেশি টাকায় ৪৫ লাখ টাকার সমান

এখন অনেকে হয়তো ভাববে ১ বিটকয়েনের দাম যদি এতো বেশি হয় তাহলে ১ ডলার দিয়ে কি কোনো কিছু পাওয়া যাবে?

মজার বিষয় হচ্ছে বিটকয়েন ৮ ডেসিমল পর্যন্ত ফেকশন হিসেবে ট্রাঞ্জেকশন করা যায় আর এই ফেকশনকে সাতশি বলা হয় অর্থাৎ প্রতি ১০০ বিলিয়ন সাতশি সমান ১ ডলার সমান ০.০০০০১৯ বিটকয়েন যা ২০২০ সালেও ৪৩২২ সাতশি ছিলো

ভবিষ্যতে বিটকয়েনের দাম বেড়ে গেলে মানুষ সাতশির মাধ্যমে লেনদেন চালিয়ে যেতে পারবে!

বিটকয়েনের প্রথম ব্যবহার :

২০১০ সালে বিটকয়েনের প্রথম কমার্সিয়াল ট্রাঞ্জেকশন হয় যখন যখন পোগ্রামার জ্যাকসোনভালি ১০,০০০ বিটকয়েনের বিনিময়ে ২ টি পির্জা ক্রয় করেন

first bitcoin transaction pizza

ডার্ক ওয়েবে বিটকয়েন

শুরুতেই বিটকয়েনের এনোনিউমিটি এবং সিকোরিটির জন্য বিটকয়েন দিয়ে ডার্ক ওয়েবে ড্রা*গ ও অবৌধ ভাবে পন্য কেনা বেচাতে বিটকয়েন ব্যবহার হতে থাকে এর মধ্যে স্কিল রোড নামে একটি অনলাইন ভিত্তিক ব্লাক মার্কেট ওয়েবসাইট যা ২০১১ সালে ফেব্রুয়ারিতে তৈরী যেখানে ড্রা*গ ও অবোধ পন্য কেনা বেচা হতে থাকে!

প্রতিষ্ঠান ৩০ মাস এর মধ্যে স্কিল রোড প্রায় ৯.৯ মিলিয়ন বিটকয়েন ট্রাঞ্জেশন করেছে যা পরবর্তীতে FBI সিজ করে!

এর মধ্যে বিটকয়েনের পপুলারিটি এর জন্য অনলাইনে আরো কিছু ক্রিপ্টোকারেন্সি আসতে থাকে এদের মধ্যে লাইটকয়েন নেইমকয়েন অন্যতম

ethereum-litecoin-bitcoin-candlesticks

১ জানুয়ারি ২০১১ – ১ বিটিকয়েন = ০.৩০ ডলার

যা ৮ জুন ২০১১ – ১ বিতকয়েন = ৩১.৫০ ডলার হয়ে যায়

যদিও এর পর বিটকয়েনের দাম পতন করতে শুরু করে এবং ২০১৩ সালে সেটি উত্থান হতে শুরু করে

২০১৩ সালের জানুয়ারিতে বিটকয়েনের দাম ১৩.৩০ ডলার থাকলেও ২০১৪ সালে সেটি ৭৭০ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায়

২০১৪ সালে মাইক্রোসফট তাদের এপ্স গেমস এর জন্য বিটকয়েন এক্সেপ্ট করা শুরু করে!

২০১৭ সালে বিটকয়েনের দাম সর্বোচ্চ ৯৯৮ ডলার হলেও ২০১৭ সালে ১৭ ডিসেম্বর ১ বিটকয়েনের দাম সর্বোচ্চ ১৯৭৪৩ ডলারে গিয়ে দাঁড়ায় যা বিটকয়েন জগতে সর্বোচ্চ দাম!

২০১৮-২০২০ সালে ২০০০ ডলারের পাশাপাশি ছিলো কিন্তু ২০২০ সালে অক্টোবর এ পেপাল বিটকয়েন সহ অন্যন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সেপ্ট করলেই বিটয়েনের দাম আবার বাড়তে থাকে এবং এই বছর বিটকয়েনের সর্বোচ্চ দাম ২৩ হাজার ৭৭০ ডলারে এসে পোছায়

প্রথম দিকে বিটকয়েন ট্রাঞ্জেকশন গুলো প্রাইভেট কি (key) এর মাধ্যমে হয়ে ছিলো যার জন্য মানুষ হয় সেটিকে মুখস্ত করে রাখতো অথবা কাগজে প্রিন্ট করে রাখতো অথবা পেন্ড্রাইভে সংরক্ষণ করে রাখতো যদিও এখন bitcoin wallate হিসেবে অনেক এপ্স রয়েছে!

বিটকয়েন ওয়ালেট এক ধরনের অনলাইন ব্যাংক যাতে একজন ইউজার তার সব বিটকয়েন জমা রাখতে পারে বিশ্বের পপুলার কয়েকটি বিটকয়েন ওয়ালেট এর মধ্যে কয়েনবেস এবং ব্লকচেইন অন্যতম এসব ওয়ালেট এর মাধ্যমে খুব সহজে বিটকয়েন ট্রাঞ্জেকশন করা যায় এবং বিটকয়েন সংরক্ষণ করা যায়

তবে ব্লকচেইন ভিত্তিক এই বিটকয়েন গুলো অনেক সিকিউর হলেও ওয়ালেট গুলো অনেক সময় সিকিউর হয় না! এই পর্যন্ত যতগুলো বিটকয়েন চুরির ঘটনা ঘটেছে সব গুলোই বিটকয়েন ওয়ালেট এর দুর্বলতার কারনেই হয়েছে!

বাংলাদেশ এ বিটকয়েন বৈধ?

বাংলাদেশ এ বিটকয়েন, লাইটকয়েন, এথেরিয়াম সহ অন্যন্য ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং করা সম্পুর্ন নিষিদ্ধ

Bitcoin bangladesh

ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল মুদ্রায় লেনদেন করলে মানি লন্ডারিং বা সন্ত্রাসি অর্থায়নে জাল মুদ্রা নিয়ন্ত্রন ও প্রতিরোধ আইনে শাস্তির বিধান রয়েছে বাংলাদেশ আইনে!

বাংলাদেশ তথ্য প্রযুক্তি ও বাংলাদেশ ব্যংক বিটকয়েন সহ ব্লকচেইন ভিত্তিক ডিজিটাল মুদ্রায় আর্থিক ক্ষতি থাকায় এধরনের লেনদেন এ বিরত থাকার জন্য বেশ কয়েকবার সতর্কতা জারি করেছে!

ক্রিপটোকারেন্সির পাশাপাশি বাংলাদেশ এ ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনিং ও নিষিদ্ধ ২০১৭ সালের পর থেকে বেশ কয়েকবার দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বেশ কয়েকজন ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইনারকে এবং লেনদেন দাতাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং মাইনার ও লেনদেনকারীদের বিরুদ্ধে এইসব ধরপাকর অব্বাহত রয়েছে!

অন্যদিকে ব্লকচেইন ভিত্তিক ডিজিটাল কারেন্সি বাংলাদেশ এ নিষিদ্ধ হলেও ২০১৯ সালে ফাইনান্স মিনিষ্টার আ. হ. ম মোস্তাফা কামাল জানান বাংলাদেশ এ পরিক্ষামুলক ভাবে ব্লকচেইন ভিত্তিক প্রযুক্তি শুরু হবে

এর ধারাবাহিকতায় বিকাশ, HSBC সহ বেশ কয়েকটি ফাইনানশিয়াল ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ এ আর্থিক লেন্দেন এ পরিক্ষামুলকভাবে ব্লক চেইনের ব্যবহার শুরু করেছে!

অনেক কম্পানি তাদের কার্যক্রমে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার শুরু করেছে এবং কর্মীদের বেতনেও এই ব্যবহার শুরু করেছে!
এখন দেখার বিষয় হলো বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়ে কি কি পদক্ষেপ গ্রহন করে

(এই আর্টিকেল এ সম্পুর্ন তথ্য অনলাইন থেকে যাচাইবাচাই করে গ্রহন করা)
মুল তথ্যসূত্র : Business Inspection Bangladesh

 

Total
2
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous Post

কিভাবে ফেসবুকে থেকে ব্লক ডোমেইন আনব্লক করবেন

Next Post

স্পটিফাই কি? কেনো স্পোটিফাই এতো জনপ্রিয়!