সুইচ ব্যাংক কি? সুইচ ব্যাংক ব্যবহার

সুইচ ব্যাংক কি
সুইচ ব্যাংক কি

আপনি হয়তো হলিউড বা বলিউডে ক্রাইম থ্রিলার মুভিতে দেখেছেন এক দুর্নিতীবাজ রাজনীতিবিদ কিংবা গডফাদার জনগনের টাকা আত্নসাৎ করে সেগুলো সুইচ ব্যাংকে তার সব টাকা রেখে দিয়েছে আর যিনি এই মুভির নায়ক সে একজন পুলিশ অফিসার সে চেষ্টা করে যাচ্ছে সেই রাজনীতিবিদ বা গডফাদারের কালো টাকা পাকড়াও করার জন্য কিন্তু সেই টাকা সুইচ ব্যাংকে থাকার কারনে কেউই সেই টাকার কাছে পৌছাতে পারছে না।

এই দৃশ্য দেখার পর আপনার মাথায় কি আসতে পারে একটু আন্দাজ করে নেওয়া যাক! প্রথমত আপনার মাথায় আসতে পারে এই সুইচ ব্যাংক কোথায় অবস্থিত আর এতো চেষ্টা করে কেন কেউ সুইচ ব্যাংকের টাকার হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। সিনেমা বা পত্রিকায় প্রায় দেখে থাকি অপরাধীরা সুইচ ব্যাংকে টাকা রাখতে তাহলে কি সুইচ ব্যাংক দুর্নিতিবাজদের ব্যাংক? তাহলে এই ব্যাংক কেনো বন্ধ করে দেওয়া হয় না! চলুন জেনে নেওয়া যাক সুইচ ব্যাংকের আদ্যোপান্ত।

সুইচ ব্যাংক কি (What Is Swiss Bank) :

সুইচ শব্দটি এসেছে সুইজারল্যান্ড থেকে সহজে বলতে গেলে সুইচ ব্যাংক বলতে সুইজারল্যান্ড এর যেকোনো ব্যাংকে বুঝায়! সুইচ ব্যাংক বলতে নিদিষ্ট কোনো একটি ব্যাংকে বুঝায় না এর মাধ্যমে একটি ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক সিস্টেম বুঝানো হয় যেমনটা বাংলাদেশ ব্যাংক বলতে বুঝানো হয় সুইচ ব্যাংক ও তার অনুরূপ।

কোনো সুইচ ব্যাংকের হিসেব অন্য সব ব্যাংকের মতোই হয়ে থাকে তবে সুইচ ব্যাংকের একটি তফাৎ হলো এটি তাদের গ্রাহকদের গোপনীয়তা কঠোর ভাবে রক্ষা করে আর সকল সুইচ ব্যাংককে নিয়ন্ত্রন করে সুইচ ফেডারেল ব্যাংকিং কমিটি

 

কারা সুইচ ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে পারবে ( Who Can Open Account In Swiss Bank) :

সিনেমা দেখে অনেকেই হয়তো ভাবতে পারে এই সকল ব্যাংকে শুধু দুর্নিতিবাজরা একাউন্ট করতে পারবে বা যারা তাদের কালো টাকার হিসেব কাউকে দিতে চায় না কিন্তু আসলে তা না সাধারন একটি ব্যাংকের মতো সুইচ ব্যাংকেও যে কোনো সাধারন মানুষ চাইলেই একাউন্ট করতে পারবে! বিশেষ করে যেসব দেশের সরকার অস্থিতিশীল সেসব দেশের মানুষেরা প্রায় সুইচ ব্যাংকে একাউন্ট ব্যবহার করে থাকে!

কেনো সুইচ ব্যাংক এতো গোপনীয়তা প্রধান করে :
একজন গ্রাহক এবং সুইচ ব্যাংকের গোপনীয়তা তুলনা করা হয় একজন রোগী এবং তার ডাক্তারের সম্পর্কের সাথে। একজন ডাক্তার যেমন তার রোগীর গোপন তথ্য রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তেমনি সুইচ ব্যাংকের কোণো গ্রাহকের তথ্য ব্যাংক কখনোই প্রকাশ করতে পারবে না (শুধুমাত্র কয়েকটি পরিস্থিতি ছাড়া)

এমনকি সেই ব্যাংকে একাউন্ট আছে কিনা সেই বিষয়েও মুখ খুলতে পারবেন না কোনো ব্যাংকার আপনার হিসেবের গোপনীয়তা ভঙ্গ করলে আপনি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবেন এবং এই অভিযোগ প্রমানিত হলে সেই ব্যাংক কর্মকর্তার সর্বোচ্চ ৬ মাস জেল অথবা ৫০,০০০ সুইচ ফ্যাংক অর্থদণ্ড হতে পারে। সুতরাং নিজেদের জেলে যাওয়া থেকে রক্ষা করা হোক কিংবা সুইচ ব্যাংকের গোপনীয়তা রক্ষার জিন্য হোক তারা সবসময় গ্রাহকের গোপনীয়তা রক্ষার্থে এক পায়ে খাড়া থাকে!

সুইচ ব্যাংকে গোপনীততার সুবিধা নিয়ে অপধারীরা কালো টাকার প্রধান গন্তব্য হচ্ছে সুইচ ব্যাংকগুলোতে! এর এক মাত্র কারন ই হচ্ছে তাদের কঠোর গোপনীয়তা।

কম ঝুকি :

আপনি যদি চান আপনার টাকার কথা কেউ না জানুক তাহলে আপনার জন্য গোপনীয়তা অনেক বড় জিনিস! আর আপনি যদি অপরাধ জগতের মানুষ হন তাহলে আপনার সুইস ব্যাংকের হিসেব হদিস পাওয়া চারটি খানি কথা নয়! অনেকে নিজের কালো টাকা লুকানোর জন্য সুইচ ব্যাংকে নিজেদের টাকা রেখে দেয়। তাই অনেক সময় শুধুমাত্র গোপনীয়তাফ জন্য অনেকে সুইচ ব্যাংকে একাউন্ট খুলে থাকে।

সুইজারল্যান্ড এ অঅর্থনৈতিক ও অবকাঠামো খুবি স্থিতিশীল ফলে স্বভাবগত ঝুকির পরিমান অনেক কম আপনাফ টাকা কীভাবে বিনিয়োগ করতে হবে সে ব্যাপারে তারা খুবি পারদর্শী।

সুইচ ব্যাংক হিসেব এবং আইন :

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ,আইন প্রয়োগকারী সংস্থা যেকোনো সময় ব্যাংক হিসেবে যাবতীয় তথ্য পেতে পারে পৃথিবীদ অধিকাংশ দেশের সিস্টেম এমন কিন্তু সুইজারল্যান্ড ব্যাপারটা সম্পুর্ন আলাদা। ব্যাংকে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা যাতে কোনো গ্রাহকের তথ্য প্রকাশ না করতে পারে সেজন্য ১৯৩৪ সালে একটি আইন তৈরী করা হয়।

তবে এই আইনের বাইরেও তথ্য প্রকাশ করতে হবে এমন কিছু বাধ্যবাধকতা আছে তা না হলে বিদেশী অপরাধীরা সহজেই ধরা ছোয়ার বাহিরে থেকে যেতো কিন্তু এইজন্য সুইচ ব্যাংক এসোসিয়েশন তাদের ওয়েবসাইট এ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে যেমন বিবাহ বিচ্ছেদ সংক্রান্ত মামলা বা অপরাধ মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত মামলা বা কর ফাকির ক্ষেত্রে আপনার এই সুরক্ষা কাজে আসবে না

সুইচ ব্যাংকে কিভাবে নিজের একাউন্ট করবেন?
যদি আপনি সুইচ ব্যাংকে একাউন্ট করতে চান সেক্ষেত্রে আপনাকে একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করন :

অতিরিক্ত নিরাপত্তার কারনে সুইচ ব্যাংকগুলো তাদের নতুন গ্রাহকদের নিয়ে অনেক অধ্যবসয়ী আপনার বৈধ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া ছাড়াও আপনার সমস্ত সম্পদের উৎস দেখাতে হবে আপনার এসব অর্থ কোথা থেকে আসে এসব বিষয়ে সম্পুর্ন জানার পদ ব্যাংক কতৃপক্ষ পরর্বর্তী ধাপে যাবে। বড় অংকের ডিপোসিট করার জন্য আপনাকে আপনার আয়ের উৎসে যথাযথ কাগজ পত্র দেখাতে হবে!

হিসেব খোলার জন্য আবেদন করার প্রক্রিয়া :

বিদেশীদের মুলত সরাসরি উপস্থিত হয়েই হিসেব খোলার আবেদন করতে হবে একটি কথা মনে রাখতে হবে আপনার আয়ের সঠিক উৎস দেখানো ছাড়া আপনি সুইচ ব্যাংকে একাউন্ট করতে পারবেন না কেউ যদি এক নিমিশেই সুইচ ব্যাংক গুলোতে একাউন্ট খোলার চিন্তা করে থাকে তাহলে তা ভুল ধারনা হবে! একাউন্ট খোলার সঠিক ধারনা রাখতে হবে এবং প্রয়োজনে কোনো এজেন্সির সাহায্য নিতে পারেন

সুইচ ব্যাংক ব্যবহার :

অধিকাংশ বিদেশী নাগরিক সুইচ ব্যাংক দৈনন্দিন ব্যাবহার এর জন্য ব্যবহার করে না আপনি ডেভিট বা ক্রেডিট কার্ড চাইলেই নিতে পারবেন কিন্তু অধিকাংশ মানুষ মুলত গোপনীতার জন্য সুইচ ব্যাংক ব্যবহার করে থাকে সুতরাং আপনি যদি ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন সে ক্ষেত্রে আপনার গোপনীয়তা আর রক্ষা করা হলো না অর্থাৎ আপনার নিরাপত্তার জন্য এতো আয়োজন সেটি পুরোপুরি ভেংগে গেলো।

আশা করি দেশীয় ব্যাংকে হিসসব খোলার প্রক্রিয়া এবং সুইচ ব্যাংকে হিসেব খোলার প্রক্রিয়ার মধ্যে অনেক তফাত খুজে পাচ্ছেন হ্যাঁ এর মুল কারন হলো বাড়তি গোপনীয়তা। তাই অর্থের বাড়তি নিরাপত্তার চিন্তা করলে সুইচ ব্যাংকগামীন হতেই পারেন।

 

কন্ট্রিবিউটর হিসেবে আমাদের সাইটে পোষ্ট করুন : Creat New Post

writing blog post
writing blog post
Total
0
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous Post
কাঞ্চনজঙ্ঘা

কাঞ্চনজঙ্ঘা হিমালয় পর্বতমালার অসম্ভব সুন্দর একটি পর্বতসৃঙ্গ এর নাম!