স্পটিফাই কি? কেনো স্পোটিফাই এতো জনপ্রিয়!

স্পটিফাই কি?

২০২১ সালে ২৩ ফেব্রুয়ারী অফিসিয়ালি বাংলাদেশ এ লঞ্চ হয়েছে স্পটিফাই এর পর থেকেই অনেকের মনে প্রশ্ন স্পোটিফাই কি? যদিও টেক নিয়ে ঘাটাঘাটি করা মানুষ এবং ইন্ডিয়ান চ্যানেল দেখা অনেকেই জানে স্পটিফাই কি এবং এটির কাজ কি!

আপনি যদি না জেনে থাকেন স্পটিফাই কি তাহলে হয়তো ভাবতে পারেন স্পোটিফাই নতুন লঞ্চ হওয়া কোনো নতুন এপ্স আসলে তা নয় স্পটিফাই লঞ্চ হয় ২০০৮ সালে লঞ্চ হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ সহ অন্যন্য অনেকগুলো দেশেই এভেইলেবল ছিলো না! তবুও অনেকে ভিপিএন বা অন্য কোনো উপায়ে স্পটিফাই ব্যবহার করতো কিন্তু এখন বাংলাদেশ থেকেও আপনি এটি ব্যবহার করতে পারবেন এবং আপনার আলাদা ভাবে কোনো ভিপিএন এর প্রয়োজন হবে না

এবার বলা যাক স্পোটিফাই কি!

সো স্পটিফাই হচ্ছে একটি ডেটিকেটেড মিউসিক স্ট্রিমিং এপ্স, ইউটিউব যেমন একটি ভিডিও স্ট্রিমিং এপ্স স্পোটিফাই ও একটি অডিও স্ট্রিমিং এপ্স! কিন্তু অনেকে হয়তো ভাব্বে ইউটিউব থাকতে স্পটিফাই কেনো?

ইউটিউব হচ্ছে একটি ডেটিকেটেড ভিডিও স্ট্রিমিং এপ্স কিন্তু স্পোটিফাই হচ্ছে একটি ডেটিকেটেড অডিও স্ট্রিমিং এপ্স!

ইউটিউব এ আমরা আমাদের স্ক্রিন অফ করে ফেললে অডিও শুনতে পারি না বা মিউসিক শুনতে পারি না তবে স্পটিফাই এ এই ঝামেলা নেই এইজন্য স্পটিফাই হলো মিউসিক স্ট্রিমিং এপ্স!ইউটিউব যেমন ভিডিওর কোয়ালিটির দিক থেকে সেরা তেমন স্পটিফাই অডিও স্ট্রিমিং এর দিক দিয়ে সেরা!

স্পটিফাই এর ফিচার :

আপনি যখন নতুন স্পটিফাই একাউন্ট করবেন তখন আপনাকে ১৪ দিনের ফ্রি ট্রায়াল দেওয়া হবে অর্থাৎ আপনি ১৪ দিন ফ্রিতে সব মিউসিক শুনতে পারবেন কিন্তু ১৪ দিন পর আপনি সব মিউসিক আর শুনতে পারবেন না! এবং গানের মাঝে এডস চলে আসতে পারে!

কেনো স্পটিফাই এ প্রিমিয়াম মেম্বারশিপ নিবেন?

স্পটিফাই এ যখন আপনি কোনো মিউসিক শুনছেন এই মিউজিক কোনো না কোনো আর্টিষ্টের পরিশ্রম করে তৈরি করতে হয় সুতরাং স্পটিফাই মাস শেষে সেই আর্টিষ্টদের একটা এমাউন্ট দিয়ে থাকে আর এই এমাউন্টটি দিয়ে থাকে আপনার প্রিমিয়াম একাউন্ট এর টাকা থেকে! আর স্পটিফাই এর মাসিক সাবস্ক্রিপশন মাত্র ১৫০-২০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে!

স্পটিফাই কেনো এতো জনপ্রিয় :

স্পটিফাই প্রতিষ্টিত হয়েছিলো ২০০৬ সালে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মার্কেটে প্রবেশ করেছিলো ২০১১ সালে এবং তারা এই যাত্রার প্রথমে বিটা ভার্সন লঞ্চ করেছিলো এবং ভালো সাড়া পাচ্ছিলো! তারা ভিবিন্ন কম্পানি থেকে মিউজিক এর কপিরাইট নেওয়া শুরু করেছিলো এবং প্লাটফর্মটি ব্যবহারে গ্রাহকদের যথেষ্ট উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছিলো তখন স্পটিফাই তাদের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছিলো! সে সময় বিভিন্ন আর্টিষ্টদের গান অবৈধ ভাবে ডাউনলোড বা চোরা চুরির মধ্যে দিয়ে বিভিন্ন প্লাটফর্ম চলছিলো এবং আর্টিষ্টদের সঠিক পেমেন্ট না পাওয়া আর এই সমস্যার সমাধান দিতেই স্পটিফাই তাদের সার্ভিসে নিয়ে আসে আর্টিষ্টদের সঠিক পেমেন্ট এবং অবৈধভাবে গান না শোনার সমস্যার সমাধান !

যুক্তরাষ্ট্রের মার্কেটে প্রবেশ করার দেরির মুল কারন ছিলো এর কপিরাইট! এর জন্য স্পটিফাইকে ২০১৮ সাল প্রর্যন্ত ৯.৮ বিলিয়ন ডকার খরচ করতে হয়েছিলো অবশ্য তারা এই ব্যাপারে জানতো যে এই পরিমান অর্থ খরচ করলেও তাদের আর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে না!

এইযুগে এসেও দেখা যায় যে বড় বড় কম্পানিদের সবার নিজেদের মিউজিক স্ট্রিমিং প্লাটফর্ম রয়েছে যেমন এপেল মিউজিক, গুগল প্লে মিউজিক, অ্যামাজন মিউজিক! এবং বিখ্যাত র‍্যাপার জেই জি টাইডাল নামে তার একটি প্লাটফর্ম শেয়ার কিনেছিলো তবুও এতোকিছুর পরেও স্পটিফাই তার শীর্ষ জায়গাটি ধরে রেখেছে! এর একটি বড় কারন হলো তাদের প্রিমিয়াম ফিচার ” গ্রাহকরা ” চাইলে সম্পুর্ন বিনামূল্যে গান শুনতে পারে এবং সাথে বিজ্ঞাপন ও শুনতে হয় কিন্তু যারা বিজ্ঞাপন শুনতে চায় না তারা অর্থ খরচ করে প্রিমিয়াম সার্ভিস কিনে নেয়!

২০১৯ সালে শেষের দিকে তাদের এই অসাধারন সার্ভিস এর জন্য স্পটিফাই এর গ্রাহক হয়ে দাড়ায় ১২৪ মিলিয়ন প্রিমিয়াম গ্রাহক! যেখানে এ্যপেল মিউজিক এর ছিলো ৬০ মিলিয়ন, অ্যামাজন মিউজিক এর ছিলো ৫৫ মিলিয়ন এবং চিনা কম্পানি টেন্সেন্টের ছিলো ৩৯.৯ মিলিয়ন গ্রাহক!

আর এই এমাউন্ট গ্রাহকের মুল কারন ছিলো স্পটিফাই এর ফ্রি মডেল কারন ফ্রি গান শোনার পরে অনেকেই এর প্রিমিয়াম সার্ভিসটি গ্রহন করে যদিও তারা না চাইলে ফ্রিতেই ব্যবহার করতে পারবে কিন্তু এ্যপেল মিউজিক এ এই সিস্টেমটি ছিলো না কারন ফ্রি ট্রায়াল এর সময় পার হলেই গ্রাহকে অর্থ ব্যয় করতে জোর দেওয়া হতো

বিনামূল্যের এই ব্যপারটি গ্রাহকের কাছে ভালো হলেও আর্টিষ্টদের কাছে মোটেও ভালো ছিলো না কারন বিজ্ঞাপন থেকে যা আয় হতো তা প্রিমিয়াম সার্ভিস থেকে অনেক কম! কিন্তু একজন আর্টিস্ট এর কাছে এই সিধন্ত নেওয়াই কষ্টকর হয়ে যেতো যে তার এপেল মিউজিক / ট্রাইডাল এর মধ্যে যাওয়া উচিত না স্পটিফাই যেখানে অসখ্য গ্রাহক রয়েছে সেখানে যাওয়া উচিত ! তাই বেশিরভার আর্টিটিষ্ট এর পছন্দ ছিলো স্পটিফাই! কিন্তু মুনাফা কম হওয়ারে অনেক আর্টিষ্ট স্পটিফাইকে বয়কট ও করেছিলো! কিন্তু সব শেষে স্পটিফাই একটি বিশাল মার্কেট শেয়ার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলো!

প্রতিযোগিতা যেমনি হোক না কেনো স্পটিফাই একটি বিশাল সাফল্যের গল্প! পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি কম্পানিরগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে বাজারে আধিপত্য ধিরে রাখার কৃতিত্ব তাদেরকেই দিতে হবে! সম্প্রতি স্পটিফাই ৮৫ টি দেশে তাদের সেবা চালু করেছে যার মধ্যে বাংলাদেশ ও একটি একজন এই দেশগুলোতে তারা কতটুকু সফল হবে তা দেখাএ অপেক্ষায় বিশ্লেষকরা!

 

 

Total
1
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous Post
বিটকয়েন কি ও ইতিহাস

বিটকয়েন কি ও ইতিহাস

Next Post
ভিপিএন কি আমাদের হ্যাকার থেকে রক্ষা করতে পারে

ভিপিএন কি আমাদের হ্যাকার থেকে রক্ষা করতে পারে?

Related Posts
ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনা

ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনা

জনপ্রিয় জিনিস নিয়ে মানুষের ভুল ধারণা তৈরি হবে এটাই স্বাভাবিক ওয়ার্ডপ্রেস সেটার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু ওয়ার্ডপ্রেস এর মত…
বিস্তারিত