স্মার্টফোনে সেরা ১০ মেসেজিং ও কলিং এ্যপস

স্মার্টফোনের সহজলভ্যতার কারনে লোপ পেয়েছে মেসেজিং কিংবা গতানুগতিক ফোন কলের করলে চাহিদা। সেই যায়গা গুলো দখল করে নিয়েছে মেসেজিং ও কলিং এ্যাপ্সসমূহ। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা কমবেশী সবাই প্রয়োজনের খাতিরে এক বা একাধিক মেসেজিং ও কলিং এ্যাপ্স ব্যবহার করে থাকেন।

মেসেজিং এপ্স এবং নরমাল টেক্স মেসেজিং এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। এক এক মানুষের কাছে আদর্শ মেসেজিং এ্যাপ্সের একেক ধরনের সংজ্ঞা রয়েছে। অধিকাংশ মানুষ পরিবার বা বন্ধুবান্ধব ব্যবহার করে এমন মেসেজিং এ্যাপ্স নির্বাচন করে থাকেন। তবে স্মার্টফোনের জন্য কিছু মেসেজিং এপ্স রয়েছে যেগুলো খুবি জনপ্রিয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক তারমধ্যে জনপ্রিয় ১০ টি জনপ্রিয় মেসেজিং এপ্স সম্পর্কে।

টেলিগ্রাম – Telegram :
স্মার্টফোনের জন্য মেসেজিং এ্যাপ্স এর তালিকায় প্রথম স্থানে রয়েছে প্রাইভেসি ও স্প্রিড ফোকাসড মেসেজিং এবং কলিং এপ্স টেলিগ্রাম। মোবাইল এবং ডেক্সটপ উভয় মাধ্যমে ব্যবহার করা যায় টেলিগ্রাম

Telegram

ক্লাউডে সংরক্ষণ করা যায় টেলিগ্রাম এর চ্যাটগুলো এছড়াও থাকে না কোনো ফাইল শেয়ার লিমিটের ঝামেলা অর্থাৎ আপনি যেকোনো সাইজের ফাইল সহজেই আদান প্রদান করতে পারবেন।

এছাড়া রয়েছে GIF স্টিকার এর সুবিধা সহ ফটো ভিডিও এডিটিং এর অনেক সুবিধা। টেলিগ্রাম এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো গ্রুপিং সুবিধা একটি গ্রুপে সর্বোচ্চ ২ লক্ষ জনকে এড করা সম্ভব। ডোনেশন এর মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ার কারনে টেলিগ্রাম সম্পুর্ন ফ্রি এবং ব্যবহার কারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদান করে থাকে।

হোয়াটসঅ্যাপ – WhatsApp :


খুব সহজ সেটাপ এবং ফ্রি বলে স্মার্টফোন ম্যাসেজিং এপ হিসেবে হোটাসএ্যপস সবচেয়ে জনপ্রিয় এর তালিকায় সর্বপ্রথম। সাধারন চ্যাটিং এর পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শেয়ার করা যায় ছবি, ডকুমেন্টস, কন্টাক্ট লোকশন সকল কিছুই তবে হোয়াটস অ্যাপে সর্বোচ্চ ৮ জন অডিও বা ভিডিও কলে জয়েন কর‍তে পারবে।

হোয়াটসঅ্যাপ মুলত ফোন ভিত্তি হওয়ার কারনে আপনার কন্টাক্টে নাম্বার সেইভ থাকার মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপ আপনা আপনি ব্যবহারকারীদের এড করে নেয়। বিপুল জনপ্রিয়তা এবং ফেসবুকের নিয়ন্ত্রনাধীন হওয়া সত্তেও এন্ড টু এন্ড এর মাধম্যে হোয়াটসঅ্যাপে টপ লেভেল প্রাইভেসি পাওয়া যায়।

ফেসবুক মেসেঞ্জার – Facebook Massager

যারা আমরা ফেসবুক ব্যবহার করে থাকি তারা সকলেই ফেসবুকের মেসেঞ্জার এ্যপের সাথে অবগত। ফেসবুক এপ্স থাকলেই এই ক্লিকে স্মার্টফোনে ব্যবহার করা যায় মেসেঞ্জার এ্যাপ্সটি। ডেস্কটপেও ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে ব্যবহার করা যায় মেসেঞ্জার। হেড চ্যাটের মাধ্যমে এপ্সের বাহিরে গিয়েও চ্যাট করার কারনে মেসেঞ্জার এর জনপ্রিয়তা নিয়ে গিয়েছে অন্য লেভেলে।

মেসেঞ্জারের ফিচার সম্পর্কে বলে শেষ করা যাবে না! ২৪ ঘন্টা মেয়াদি স্টোরি এর পাশাপাশি লোকেশন শেয়ারিং ফটো ভিডিও শেয়ারিং তো থাকছেই।

সম্প্রতি মেসেঞ্জারে ভ্যানিস মোড এবং রুম সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে যার মাধ্যমে একাউন্ট না থাকলেও সর্বোচ্চ ৫০ জন যুক্ত হতে পারবে। মেসেঞ্জারে ২৫০ জন নিয়ে চ্যাট গ্রুপ করা যায় এছাড়াও ফ্রি অডিও ও ভিডিও চ্যাটে সর্বোচ্চ ৫০ জন যুক্ত হতে পারবেন।

স্ন্যাপচ্যাট – Snapchat :

সেলেব্রিটিদের জন্য জনপ্রিয় পাওয়া আ্যাপ স্ন্যাপচ্যাট বর্তমানে তরুন সমাজের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় তবে স্ন্যাপচ্যাট অন্যান্য মেসেজিং এপ্স থেকে পুরো আলাদা । ফিচারের দিক থেকে স্ন্যাপচ্যাট এর ফিচার লিষ্ট অনেক ছোটো হলেও এর ফিচার সব ব্যবহারকারীদের হাতের মুঠোয় । স্ন্যাপচ্যাটের ইউজাররা চাইলে নিজের ছবির পরিবর্তে নিজের এভোটার ইউস করতে পারেন তাদের প্রোফাইও পিকচারে।

স্ন্যাপচ্যাটে রয়েছে ভিডিও কলিং ভিডিও মেসেজিং ফটো মেসেজ ও সাধারন মেসেজিং এর সুবিধা ব্যবহারকারীরা চাইলে ভ্যানিস মোড ইউস করে কথোপকথন করতে পারে ফলে ৩য় পক্ষ কেউ জানতে পারবে না এছাড়া স্ক্রিনশট নিলে অন্য প্রান্তের ব্যবহারকারীকে জানিয়ে দেয় স্ন্যাপচ্যাট।

তবে স্ন্যাপচ্যাট সবচেয়ে জনপ্রিয় ফিচার হলো ছবি না ভিডিওতে ভিবিন্ন ধরনের ফিলটার ব্যবহার করা। স্ন্যাপচ্যাট এর ফিল্টার এর জন্য স্ন্যাপচ্যাট সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এছাড়া ২৪ ঘন্টা মেয়াদী স্টোরি যা শুধুমাত্র পোষ্টকারীর ফলোয়াররা দেখতে পারবে! স্ন্যাপচ্যাটের এই ফিচারটি এতো জনপ্রিয় হয়েছিলো যেকারনে ফেসবুক এক প্রকার বাধ্য হয়ে ফেসবুকে এবং হোয়াটসঅ্যাপে স্টোরি ফিচারটি যুক্ত করে! স্ন্যাপচ্যাট এর এই যুগান্তকারী ফিচারটি টুইটার এবং লিংকড-ইনের মতো প্রতিষ্ঠানকেও নাড়া দেয় যার ফলে এসব প্লাটফর্ম গুলোতেও যুক্ত করা হয়েছিলো স্টোরিস ফিচার।

ডিস্কর্ড – Discord
ডিস্কর্ড মুলত তৈরি করা হয়েছিলো গেমারদের জন্য! ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া এই আ্যাপস সবচেয়ে জনপ্রিয় হয় ভিডিও গেমারদের জন্য। বর্তমানে মাসিক ৫৬ মিলিয়জ নিয়মিত ব্যবহারকারীর পাশাপাশি মোট ২৫০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী রয়েছে। প্রাইভেট গ্রুপ চ্যাটে একসাথে ১০ জন ভয়েস কলে যুক্ত হতে পারে যা গেমারদের জন্য গেমিং এর সময় টিম ম্যানেজমেন্ট এর কাজে সুবিধা দেয়। ডিসকর্ডে রয়েছে চ্যানেল নামক গ্রুপ চ্যাটের সুবিধা যার মধ্যে আলাদা আলাদা আড্ডার জন্য আলাদা আলাদা ধরনের সাব গ্রুপ করা যায়। গ্রুপের পাশাপাশি সাবপ গ্রুপেও সেটিং রয়েছে যা চ্যাটিং কে আরো ফ্লাক্সিবল করে। তবে ডিসকর্ড এন্ড টু এন্ড ইনক্রিপশন ব্যবহার করে না সুতরাং যারা প্রাইভেসি খুজে থাকেন তাদের জন্য ডিসকর্ড পছন্দের তালিকায় নাও থাকতে পারে।

সিগনাল – Signal :

চ্যাট এনক্রিপশন ও সিকিউরিটির দিক বিবেচনা করলে সিগনাল এপ্সটি অসাধারন চয়েস হতে পারে কারন সকল মেসেজিং ও ভয়েস কলে মিলিটারি গ্রেড ইনক্রিপশন প্রধান করে থাকে এই আ্যাপসটি। আ্যাপটিতে রয়েছে টেক্সট, ভয়েস কল, গ্রুপ মেসেজ ও এটাচমেন্ট সেন্ডিং এর সুবিধা। এডওয়ার্ড স্নোডেন এর মত এক্সপার্ট সিগনাল এপটিকে সবচেয়ে সিকিউরড মেসেজিং এপ্স হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। সিগনাল এপ এ ছবি এডিটিং, স্টিকার এমনকি রিয়েক্টিং এর সুবিধাও রয়েছে।

ভাইবার – Viber :

এতো সব জনপ্রিয় এপের ভিড়ে ভাইবারের জনপ্রিয়তা কমে গেলেও ফিচারের বিবেচনায় কোনো দিক দিয়ে পিছিয়ে নেই এই এপ টি। বিশ্বব্যাপী ১ বিলিয়নের অধিক ব্যবহারকারী নিয়ে ভাইবার জনপ্রিয় এপ হিসেবে তাদের স্থান ধরে রেখেছে। ভাইবারে রয়েছে অসাধারন মেসেজিং ফিচার সেল্ফ ডিস্ট্রাক্টিং মেসেজ, গ্রুপ চ্যাট সুবিধা ভিডিও মেসেজিং সহ আরো অনেক ফিচার, তবে যারা মেসেজিং এর জন্য বা চ্যাটের জন্য ক্লিন ইন্টারফেস পছন্দ করেন তাদের জন্য ভাইবার নয়!

লাইন – Line

৬০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়ে এশিয়ার ব্যপক জনপ্রিয় মেসেজিং ও কলিং এপ্স লাইন। সাধারন মেসেজিং এর সুবিধার পাশাপাশি ফেসবুকের সাথে লাইনের তুলনা করা চলে। লাইন এপে পোষ্ট করা কমেন্ট ও করা যায়। লাইন এপ ব্যবহার করে বিনামূল্যে ল্যান্ডলাইন কল করা সম্ভব। লাইনে একসাথে ৫০০ জন চ্যাট গ্রুপে জয়েন হতে পারে এছাড়া ভিডিও কল, অডিও কলের মতো ফিচারতো রয়েছেই এছাড়া লাইনে ক্যারেক্টর সম্বলিত স্টিকার রয়েছে যা ব্যবহারকারীদের মধ্যে খুবি জনপ্রিয়।লাইন এপে আর্টিষ্ট ব্যান্ডকে ফলো করার মতো ফিচার রয়েছে এপে এলবাম সেটাপের পাশাপাশি বন্ধু বান্ধবকে শেয়ার করার ফিচার ও রয়েছে। আরো রয়েছে বন্ধুদের সাথে কলে থাকা অবস্থায় ইউটিউব দেখার সুবিধা।

স্কাইপ – Skype :

একটা সময় ইন্টারনেট জগতে দাপিয়ে বেড়াতো মেসেজিং এপ স্কাইপ তবে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেদের আপডেট করতে না পারার কারনে অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে এক সময়ের কলিং এবং মেসেজিং এপ স্কাইপ অডিও ভিডিও কলের পাশাপাশি সব সুবিধাই রয়েছে স্কাইপে তবে এর প্রধান ফিচার হলো নিদিষ্ট একটি ফি এর বদলে নরমাল ফোন নাম্বারেও কল দেওয়া যায় স্কাইপ ইউস করার মাধ্যমে এপটি ক্রস প্লাটফর্ম সাপোর্টেড। সাধারন এপ ফিচার যেমন স্টিকার, ফাইল সেন্ডিং এসব জিনিস এর সুবিধা তো রয়েছেই।

উইচ্যাট – Wechat

১ বিলিয়নের অধিক ব্যবহারকারী নিয়ে চীজের সবচেয়ে জনপ্রিয় এপ উইচ্যাট। মেসেজএর পাশাপাশি ফটো শেয়ারিং এর সুবিধা অডিও ভিডিও কলিং সুবিধা সবকিছুই রয়েছে এই এপটিতে। পেমেন্ট গেমস সহ আরো অনেক ফিচার রয়েছে এই এপসটিতে। wear Os এবং Ios আ্যাপেল ওয়াচেও ব্যবহার করা যায় এপসটিতে এ

ই এপসগুলোর মধ্যে কোনটি আপনার সবচেয়ে পছন্দের কমেন্টে জানান!

Total
0
Shares
Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Previous Post
ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনা

ওয়ার্ডপ্রেস সম্পর্কে কিছু ভুল ধারনা

Next Post
পাব্জি কেন এতো জনপ্রিয়

পাব্জি কেন এতো জনপ্রিয়

Related Posts